এবার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ২২৬টি মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৮৬টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা মাদরাসার সংখ্যা বেড়েছে ১৪০টি।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্র ৮১ হাজার ৭৬৫ জন এবং ছাত্রী ৮৩ হাজার ৩২ জন। সামগ্রিকভাবে দাখিলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ফলাফলে ছাত্রীদের সাফল্যের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। এবার দাখিল পরীক্ষায় ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, আর ছাত্রদের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে সারাদেশে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সে হিসাবে গত ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
এদিকে প্রকাশিত ফলাফলে ২২৬টি মাদরাসায় একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব পেয়েছে।


