বুশেহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ; আইআরজিসির দাবি, বিমান প্রতিরক্ষার হামলায় ধ্বংস এমকিউ-৯ রিপার। যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলছে, ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সফল অভিযানে ড্রোনটি গুলি করে ধ্বংস করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পরই ড্রোনটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করে।
ধ্বংস হওয়া এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।
এমকিউ-৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধ ও নজরদারি ড্রোন। দীর্ঘ সময় আকাশে টহল, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। এতে মাল্টি-স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত থাকে। পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযোজনের পর একটি রিপার ড্রোনের মূল্য ৩ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।
ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি সত্য হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা কৌশল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।তবে এ ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এমন ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।


