২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাতের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশও নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়ে। সে সময় জঙ্গীদের আক্রমণের মুখে পড়ে পুলিশ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার অধিক পুলিশ নির্মমভাবে নিহত হন। দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটতেই থাকে; বহু পুলিশ সদস্য নিহত ও আহত হন। এই সহিংস পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।

প্রায় দুই বছর পরও সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ পুরোপুরি স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ফিরতে পারেনি। প্রশাসনিক পুনর্গঠন, ব্যাপক রদবদল, আইনি চাপ, জনআস্থার সংকট এবং সদস্যদের মানসিক অনিশ্চয়তার কারণে বাহিনীর কার্যক্রম এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চেইন অব কমান্ড দুর্বল হওয়া, সদস্যদের মনোবল কমে যাওয়া এবং মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধার প্রভাব দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও পড়ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে শতাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশের ১ হাজার ৫৯৮ কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই পুলিশের ওপর অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের সংস্কার যেমন জরুরি, তেমনি একটি কার্যকর, পেশাদার ও আত্মবিশ্বাসী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনাই এখন বাহিনীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version