দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি তদারকির দায়িত্বে থাকা ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি পর্ষদ) জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সব অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। পর্ষদ এই সিদ্ধান্তকে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক বার্তায় শান্তি পর্ষদ জানায়, এই প্রথম হামাস একটি নির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় নিজেদের সব অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
পর্ষদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, ধ্বংসস্তূপ থেকে গাজাকে পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল।
জানা গেছে, এই আলোচনার ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব, যেখানে গাজাকে পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছিল।
শান্তি পর্ষদের দাবি, হামাসের অস্ত্র সমর্পণে সম্মতি সেই দীর্ঘ আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজায় সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ও মানবিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।


