ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ জয়; ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপুটে ভারত
এশিয়ার ক্রিকেটে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল ভারত। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে তারা। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। জবাবে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মুখে ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
ফাইনালে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তারা। পাওয়ার প্লেতেই ৫৭ রান তুলে নেয় ভারত- চলতি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো এই পর্বে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় দলটি।
মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন শেফালি। এর মধ্য দিয়ে নারী এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা।
অন্যদিকে ৩৫ বলে নিজের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন স্মৃতি মান্ধানা। শেফালির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলা স্মৃতিও ৩৯ বলে ৫৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা।
দুই ওপেনারের ব্যাটে মাত্র ১০.৩ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে ভারত। তাঁদের ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অন্তত পাঁচটি দল অংশ নেওয়া নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডও গড়েন তারা।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ওঠেন শেফালি ও স্মৃতি। দুজনের শতরানের জুটির সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়টিতে।
চামুদি প্রভোদার বলে শেফালি আউট হওয়ার পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। চলতি আসরে এটি ছিল স্মৃতির তৃতীয় রানআউট।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ভারতীয় ইনিংসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীলঙ্কার বোলাররা। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ১৪ বলে ১৪ রান করেন। রিচা ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৭ রান। দীপ্তি শর্মা রানআউট হওয়ার আগে করেন ৭ বলে ৫ রান।
তবে শেষ দিকে গুণালন কমলিনীর মাত্র পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কোনো ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন।
১৮৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ৪ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।
তবে আতাপাত্তু ৩৬ রানে আউট হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নে ফিরলে লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই গুটিয়ে যায়।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শ্রী চরণী। চার ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা চার ওভারে ১৯ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। তাঁদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারতের শিরোপা সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে। ওয়ানডে সংস্করণেও ভারত চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে- ২০০৪, ২০০৫-০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ সালে।
শেফালি-স্মৃতির রেকর্ডগড়া ব্যাটিং এবং শ্রী চরণী-দীপ্তি শর্মার আগুনঝরা বোলিংয়ে ভারত শুধু ফাইনালই জেতেনি, ফিরিয়ে এনেছে এশিয়ার ক্রিকেটে নিজেদের হারানো মুকুটও।


