‘আগামী পাঁচ বছরে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে- এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করে এআই গবেষণার ক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন গবেষক জশ এঙ্গেলস। তার দাবি, মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই তৈরির প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত মানবজাতির জন্যই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে জশ এঙ্গেলস জানান, এআই ব্যবহারের ঝুঁকি তার কাছে এখন এতটাই বেশি মনে হচ্ছে যে তিনি এ ক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, ভবিষ্যৎ বিপদের বিষয়টি বিবেচনা করেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জশ এঙ্গেলস বলেন, মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই তৈরির দৌড়ে নেমে মানবসভ্যতার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, মানুষের লক্ষ্য ও এআইয়ের আচরণের মধ্যে অসামঞ্জস্য তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এমন কিছু এআই মডেলের বিষয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, যেগুলো মানুষের নজর এড়িয়ে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব কর্মকাণ্ডের চিহ্নও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে সামাজিক প্রকৌশল বা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কথাও উল্লেখ করেন এই গবেষক। তার অভিযোগ, এআই মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার কৌশল ব্যবহার করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট তৈরি করতে পারে।
জশ এঙ্গেলসের আশঙ্কা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআইয়ের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে। তার মতে, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং বর্তমান বিশ্বে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
জশ এঙ্গেলসের বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। এর আগেও এআই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জেকব কক্সন Anthropic থেকে পদত্যাগের সময় একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি ছিল, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই মানুষের জীবননাশের মতো ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এআইয়ের উন্নয়ন কত দ্রুত এবং কোন সীমার মধ্যে এগিয়ে নেওয়া উচিত- এ নিয়ে এরই মধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যেও সতর্কতার আহ্বান এসেছে। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও উন্নয়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও এআই খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও।
তবে এআই-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ বিপদের মাত্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ এআইয়ের অপব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় সাইবার আক্রমণ, ভুল তথ্য ছড়ানো ও মানুষের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন; অন্যদিকে অনেকে বলছেন, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক তদারকির মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ফলে এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি করাই এখন প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


