বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে ‘পূর্বনির্ধারিত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রহসনের রায়’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ অবস্থান জানান। বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করে রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে যাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেবল একটি ছাত্রসংগঠন নয়; বাঙালির অধিকার, গণতন্ত্র, মুক্তি ও স্বাধীনতার আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সংগঠনটির দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সংগঠনটি ভূমিকা রেখেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে পাকিস্তানি শাসনামলে শোষণ, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক নেতাদের দাবি, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বানোয়াট অভিযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জনগণ ও ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। তাদের ভাষ্য, কোনো রায়ের মাধ্যমে ইতিহাসের সত্যকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা রায়টিকে ‘পূর্বনির্ধারিত, প্রহসনমূলক, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করছেন। একই সঙ্গে অন্যায়, অবিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলা হয়, কোনো ‘ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার কিংবা প্রহসনের বিচার’ দিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সাবেক সভাপতি মাঈনউদ্দিন হাসান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রহিম, সাবেক সভাপতি এ কে এম এনামুল হক শামীম, লিয়াকত সিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।


