ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশকে ঘিরে পাওয়া গেলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, ফলাফল প্রস্তুতের প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ শতাংশের নিচে। পরে ফলাফল প্রকাশের আগে সেটি বাড়িয়ে প্রায় ৭১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
বোর্ডের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, ঢাকা বোর্ডের ফলাফলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় ঢাকা বোর্ডে পাসের হার বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে বিশেষ ‘বিবেচনা’ কাজ করেছে।
অভিযোগকারীরা জানায়, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এবং ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি বিষয়ে খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত একজন বলেন, তিনি এবার প্রায় ৪০০টি HSC আইসিটি খাতা মূল্যায়ন করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, ওই ৪০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৮ জন পাস করেছে। তাহলে পাসের হার কীভাবে ৭১ শতাংশ?
এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ফলাফল প্রকাশের আগে ঢাকা বোর্ডের পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর একটি। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাতেই বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন, কর্মসূচি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে অকৃতকার্য না দেখিয়ে পাস করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এতদিন ফল প্রকাশ হয়নি? ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলেন, ঢাকা বোর্ডের ফলাফলের পাসের হার নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে হিসাব-নিকাশ ও পরিবর্তনের কাজ চলার কারণেই ফল প্রকাশে সময় লেগেছে। বোর্ডের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফলাফলের প্রাথমিক হিসাব এবং চূড়ান্ত প্রকাশিত ফলাফলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে আইসিটি বিষয়ের খাতা মূল্যায়ন নিয়ে। একজন পরীক্ষক বলেন, তার মূল্যায়ন করা প্রায় ৪০০টি খাতার মধ্যে মাত্র ৮৮ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এই তথ্য সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সামগ্রিক ফলাফল এবং পরবর্তী সময়ে বোর্ডের প্রকাশিত পাসের হারের সঙ্গে সেটির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের মূল্যায়ন, পুনর্নিরীক্ষণ, নম্বর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং বোর্ডের ফলাফল প্রস্তুতের সফটওয়্যারভিত্তিক তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।


