নাটোরের সিংড়া উপজেলায় সংযোগ সড়ক ছাড়াই ফসলি মাঠের মাঝখানে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি তিন-কপাটবিশিষ্ট (থ্রি ভেন্ট) স্লুইসগেট এখন সরকারি পরিকল্পনাহীনতা ও অর্থ অপচয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণের কয়েক বছর পরও স্লুইসগেটটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে, আর এতে লাভবান হয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও ঠিকাদার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের ভোগা মাঠ এলাকায় রাজবাড়ী খালের ওপর ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি জলকপাট ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে স্লুইসগেটটির একটি জলকপাট নিচে পড়ে রয়েছে, অন্য দুটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ছাড়াই স্থাপন করা হয়েছে। তালা-চাবির স্থানে কাঠ ও গাছের কাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চারপাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে স্লুইসগেটটি। সেখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই, নেই যানবাহন চলাচলের সুযোগও। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, কেন এমন স্থানে কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।
কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইসগেট নির্মাণের পর খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগা, বসন্তপুর, নিমাকদমা, সোয়াইর, চৌগ্রাম ও গলগলিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতি মৌসুমেই ফসলের ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, “এখানে স্লুইসগেটের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। চারদিকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো রাস্তা নেই, শুধু কৃষিজমি। পরিকল্পনাহীনভাবে এটি নির্মাণ করে সরকারি টাকা অপচয় করা হয়েছে।”
দিনমজুর রেজাউল করিম বলেন, “আগে সাঁকো দিয়ে সহজে খাল পার হওয়া যেত। এখন ফসল নিয়ে স্লুইসগেট পার হতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমন প্রকল্প মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।”
স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকার এই প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে জনগণের অর্থের এমন অপচয় ভবিষ্যতে আর না ঘটে।


