চট্টগ্রাম নগরের শোলকবহর এলাকার জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে মো. সেকেন্দর হোসেন মিসবাহ (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর মিসবাহর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর যোগাযোগ হয়নি। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।
মিসবাহর নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা মো. বশির আহমেদ গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মিসবাহ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করছেন। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও তার সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জিডিতে মিসবাহর শারীরিক বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। তার গায়ের রং ফর্সা, চেহারা লম্বাটে এবং উচ্চতা প্রায় ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার পরনে ছিল পায়জামা ও পাঞ্জাবি।
মিসবাহর বাবা মো. বশির আহমেদ বলেন, ‘আমার ছেলে হঠাৎ মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর থেকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। আত্মীয়স্বজনের কাছেও খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাইনি। পরে থানায় জিডি করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো খবর না পাওয়ায় আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মিসবাহকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত তার নিখোঁজের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বলা যাচ্ছে না। তার সন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে মিসবাহর সন্ধান পেলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


