প্রয়োজন ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, জুলাই পর্যন্ত মিলেছে মাত্র ২.৭ বিলিয়ন- সহায়তা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা
দাতাদের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী অর্থায়ন সংকটের কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সুরক্ষা এবং সহায়তা কার্যক্রম ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, একদিকে সহায়তার প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপ্রবণ অঞ্চলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য পরিচালিত জরুরি কার্যক্রম মারাত্মক চাপে পড়েছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সংস্থাটি ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই অর্থের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
শরণার্থীদের সুরক্ষা ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ২০২৬ সালে ইউএনএইচসিআরের প্রয়োজন ছিল অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু জুলাই পর্যন্ত সংস্থাটি পেয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৩২ শতাংশ।
অর্থের এই বিপুল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে। গুরুত্বপূর্ণ শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর এলাকায় সহায়তা, সুরক্ষা এবং জরুরি সেবার পরিধি ইতোমধ্যে সংকুচিত হতে শুরু করেছে। অর্থায়ন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে মানবিক সহায়তা বন্ধ বা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, অর্থ সংকট মোকাবিলায় কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস, সংস্কার এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থঘাটতি অব্যাহত থাকলে এসব পদক্ষেপ দিয়েও প্রয়োজনীয় সেবা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সংস্থাটির এক্সটারনাল রিলেশনস বিভাগের প্রধান ডমিনিক হাইড সতর্ক করে বলেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার সক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে তা ধীরে ধীরে নয়, বরং দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। তখন শুধু কমসংখ্যক মানুষ সেবা পাবেন- বিষয়টি এমন নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কার্যক্রমই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এর ফলে সংঘাত, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলো প্রয়োজনীয় আশ্রয়, সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা থেকে আরও গভীর সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে ইউএনএইচসিআর।


