ভারতের কর্ণাটকের রায়চুর জেলায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর নাম স্নেহা (২৫)। মর্মান্তিক এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে মায়ের নিথর দেহ আঁকড়ে দেড় বছরের শিশুর কান্নার দৃশ্য হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিন্ধনুর উপজেলার আরএইচ ক্যাম্প-৫ এলাকার একটি কৃষিজমিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন স্নেহা। স্থানীয়রা তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভারী কোনো পাথর দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে স্নেহাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার সঠিক কারণ এবং হামলার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, মায়ের নিথর দেহের পাশে বসে দেড় বছরের শিশুটি কান্না করছিল এবং বারবার মায়ের দেহ আঁকড়ে ধরছিল। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় নিহত স্নেহার স্বামী অমিত এবং তাঁর কথিত প্রেমিক শুভমকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


