দেশে হামের ভয়াবহতা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে দুজন রয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬০ জনে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিভাগভিত্তিক হিসেবে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৩৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেটে ১১৭ জন, রাজশাহীতে ৯১ জন, ময়মনসিংহে ৭১ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, বরিশালে ৪৫ জন, খুলনায় ৩২ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছেন।
এদিকে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে যান ৭৩৩ জন। তাদের মধ্যে ৬৪৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২৭ জন, চট্টগ্রামে ২১১ জন, সিলেটে ৭৪ জন, বরিশালে ৫৬ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, খুলনায় ১৮ জন, রাজশাহীতে ১৬ জন এবং রংপুরে ১০ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় আরও ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এদিকে, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সংক্রমণ এবং প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


