বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা এলাকার একটি আবাসিক মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে টানা ১৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুর রহমান মিন্টুকে (৩২) বিভিন্ন কৌশলে তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১৩ দিন আটকে রাখেন। এ সময় তার ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তারা আইনি প্রতিকার চাওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবারটি একদিকে মেয়েটির নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে উল্টো মামলার কারণে আইনি চাপের মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছর মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব এবং আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শিশু নির্যাতনের এসব ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত না করে তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করাই আইনসম্মত।


