বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচের আগে ফুটবলের উত্তেজনার সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধ। ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ টেনে ইংল্যান্ডকে ‘হানাদার’ ও ‘জবরদখলকারী’ দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভিয়ারুয়েল বলেন, “আমরা একটি জবরদখলকারী জলদস্যু দেশের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এর চেয়েও অনেক বড় কিছু। আমি রাজনৈতিকভাবে সঠিক বা অনুভূতিহীন মন্তব্য করতে পারব না।”
তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনা কখনোই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দাবি থেকে সরে আসবে না। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “মালভিনাস আমাদের, দিয়েগো আমাদের, আর হানাদারদের রুখে দিতে এটি লিওনেল মেসির শেষ সুযোগ। এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!” তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো। ১৯৮২ সালে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায় আড়াই মাসব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে যুক্তরাজয় জয়ী হলেও আর্জেন্টিনা এখনো দ্বীপটির ওপর নিজেদের সার্বভৌম দাবি বজায় রেখেছে। ফলে দুই দেশের ফুটবল লড়াইয়ে প্রায়ই এই ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিপরীতে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচটিকে শুধুই ফুটবল হিসেবেই দেখতে চান। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ফকল্যান্ড ইস্যু আমাদের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। কিন্তু বহু বছর আগের সেই ঘটনার সঙ্গে এই ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, রাজনৈতিক লড়াই নয়। দুটিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।”
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই সেমিফাইনাল ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ড, নাকি লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা।


