দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখিয়ে শুরু হয়েছিল ১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্প। বলা হয়েছিল, উটপাখি হতে পারে গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস; দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত হবে নতুন দিগন্ত। কিন্তু কয়েক বছর পর সেই স্বপ্নের জায়গায় দেখা মিলেছে হতাশা, বিতর্ক এবং জবাবদিহির প্রশ্ন।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) প্রকল্পের আওতায় আফ্রিকা থেকে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টিকেই গবেষণার নামে জবাই করা হয়েছে। আরও তিনটি মারা গেছে। অর্থাৎ কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে আজ কার্যত অবশিষ্ট মাত্র চারটি উটপাখি। অথচ প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো সাফল্য বা বাণিজ্যিক ফলাফল এখনো সামনে আসেনি।
যে প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া, সেটিই আজ পরিণত হয়েছে প্রশ্নের পাহাড়ে। গবেষণার নামে এত বিপুল সংখ্যক প্রাণী জবাই করা কতটা প্রয়োজন ছিল? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পর জনগণ কী পেল? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মিলছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গবেষণা ব্যর্থ হতেই পারে, কিন্তু সেই ব্যর্থতারও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি থাকতে হয়। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পে কী অর্জন হলো, কেন প্রত্যাশিত ফল আসেনি এবং কেন এত সংখ্যক প্রাণী জবাই করতে হলো-এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এর আগেও গবেষণাধীন মোরগ ও কোয়েল পাখি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে একের পর এক অভিযোগ বিএলআরআইয়ের গবেষণা ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এখন প্রশ্ন একটাই-১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের প্রকৃত অর্জন কোথায়? জনগণের অর্থ ব্যয়ের হিসাব কে দেবে? তদন্ত শেষ পর্যন্ত কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দায়ীদের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে-সেই উত্তর জানার অপেক্ষায় দেশবাসী।


