গাইবান্ধার রাম মন্দিরের নির্মাতা হিসেবে পরিচিত হরিদাসকে গভীর রাতে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে আটক করেছে ডিবি। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করে তাকে আটক করে নিয়ে যান। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বরাতে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল ব্যক্তি নিজেদের জেলা ডিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারা হরিদাস বাবুর সঙ্গে কথা বলার কথা বলতে তাকে বাইরে আসতে বলেন। এ সময় তাকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো সঙ্গে নিতে এবং মন্দিরের সব চাবি নিয়ে আসার জন্যও বলা হয়। তিনি তাদের কথামতো ফোন ও চাবি নিয়ে বাইরে এলে সেখানে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরে একটি গাড়িতে তুলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিবি জানায়, ঢাকার উত্তরা এলাকার ২০১৮ সালের একটি পুরোনো মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে হরিদাস বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটির প্রকৃতি, অভিযোগের বিস্তারিত কিংবা কোন আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে-এসব বিষয়ে তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনার পরপরই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মন্দিরে উপস্থিত হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হরিদাস বাবু স্থানীয়ভাবে একটি রাম মন্দির নির্মাণ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দেশব্যাপী পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত। তার পরিবার ও মন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানায়, অতীতে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, পূর্বে সহযোগিতামূলক অবস্থানে থাকার পরও তাকে গভীর রাতে এভাবে আটক করার ঘটনায় তারা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে চিন্ময় কৃষ্ণ মহারাজের মামলার প্রসঙ্গ তুলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত হরিদাস বাবুর গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিস্তারিত কিংবা তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে-এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।


