আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের দশকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘এক্স স্লিপ’-এ প্রকাশিত কবি শামসুর রহমানের একটি পুরোনো বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বক্তব্যটিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া মেজর জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, জাতীয়তাবাদ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান এই কবি।
সম্প্রতি সেই সময়ের সংবাদ প্রতিবেদন ও পত্রিকার কাটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি পুরোনো পত্রিকার কাটিংসহ পোস্টটি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই কবি শামসুর রহমানের ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত লেখার বর্ণনা অনুযায়ী, ‘গণঅভ্যুত্থান ৯০’ শীর্ষক একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে শামসুর রহমান জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সময় তার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে জিয়ার ভাষা, জাতীয়তাবাদ এবং পাকিস্তানের প্রতি তার কথিত আবেগ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
শামসুর রহমানের বক্তব্যে বলা হয়, “জিয়াউর রহমান বাংলায় কথা বলতে পারতেন না। তার ভাষায় উর্দুর টান ছিল।” এরপর তিনি জিয়ার প্রচারিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “তিনি যে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের প্রচার করেছিলেন তা হচ্ছে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের আদল। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে তিনি একদম সহ্য করতে পারতেন না।”
সেমিনারে কবি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন তার কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন বলে ওই পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শামসুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বাঙালির জাতীয় চেতনা তার সাহিত্য ও রাজনৈতিক-সামাজিক ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ছিল। অন্যদিকে, মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক দর্শন ও ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পুরোনো পত্রিকার কাটিংয়ে থাকা বক্তব্যটি কয়েক দশক আগের। ফলে এর ভাষ্য ও প্রেক্ষাপটকে সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। আনিস আলমগীরের প্রকাশ করা কাটিংটি মূলত সেই সময়ের একটি বক্তব্যের পুনঃপ্রকাশ, নতুন কোনো বক্তব্য নয়।


