দেশে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জুলাই মাসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ বেড়েছে এবং আত্মহত্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন, মব সহিংসতা এবং মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনার বিপরীতে জুলাইয়ে তা কমে ৩০৬টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ৬৮ থেকে বেড়ে ৯০টিতে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। আত্মহত্যার ঘটনাও ১৭ থেকে বেড়ে ২৮টিতে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও সামান্য বেড়ে ২১ থেকে ২২টিতে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬ থেকে কমে ৭টিতে, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫ থেকে ৩টিতে, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৫৬ থেকে ৪২টিতে এবং হত্যাকাণ্ড ৭৬ থেকে ৫২টিতে নেমে এসেছে। অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২ থেকে বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়ালেও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা দুই মাসেই একটি করে ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে ৯৩ জনে পৌঁছেছে। মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪ জন। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বৃদ্ধি এবং নবজাতক পরিত্যাগের মতো ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গুরুতর অপরাধ স্থানীয় সালিশে নিষ্পত্তি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং জবাবদিহির ঘাটতি অপরাধ প্রবণতা কমাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কার্যকর প্রতিরোধ, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকলে এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এমএসএফ মনে করে, কেবল অভিযান নয়, সুশাসন, জবাবদিহি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করেই এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।


