ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত ১০ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় হিজাব ছাড়াই অংশ নিলেন বহু নারী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভেলায়াত পার্কে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিযোগিতার সরকারি সূচি অনুযায়ী, নারীদের দৌড় শুরু হয় ভোর সাড়ে ৫টায় এবং পুরুষদের প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ৭টায়। দুই বিভাগ আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং নারীদের দৌড়ের পথ ছিল ১০ কিলোমিটার। আয়োজকদের ওয়েবসাইটেও ভেলায়াত পার্ককে ভেন্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অংশ নেওয়া অনেক নারী মাথায় কোনো স্কার্ফ বা হিজাব ছাড়াই সাধারণ ক্রীড়া পোশাকে দৌড়াচ্ছেন। এ দৃশ্য ইরানে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটিতে নারীদের জন্য জনসমক্ষে হিজাব পরার বিধান এখনো কার্যকর।
তবে প্রতিযোগিতার আয়োজকদের দাবি, সব প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল। তেহরানের অ্যাথলেটিকস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতার আগে অংশগ্রহণকারীদের ‘হিজাব ও ইসলামি শালীনতা’ মেনে চলার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল এবং নারীদের জন্য স্কার্ফও দেওয়া হয়েছিল। কিছু অংশগ্রহণকারী নির্ধারিত পোশাকবিধি না মানায় দৌড় শুরুর পর কিছু সময়ের জন্য প্রতিযোগিতা থামিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ছবি-ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের গণমাধ্যমকেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতিযোগিতায় ‘আইনি ও ধর্মীয় বিধি’ যথাযথভাবে মানা হয়নি- এমন অভিযোগে তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয় আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা সুনির্দিষ্ট কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
ঘটনাটিকে ঘিরে আরও তাৎপর্য তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতার সময়কাল ও স্থান নিয়ে। একই সকালে তেহরানের অন্য এলাকায় সরকার-সমর্থিত ‘জান-ফেদা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফলে একই শহরে একদিকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে নারীদের প্রচলিত পোশাকে অংশগ্রহণ, অন্যদিকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হিজাব ছাড়া নারীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি- দুটি ভিন্ন দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।
এর আগে ইরানের কিশ দ্বীপেও একই ধরনের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় নারীদের হিজাব ছাড়া অংশগ্রহণের ছবি প্রকাশ্যে আসে। পরে ওই আয়োজনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


