দেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩৮ জনই শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭ জনকে। একই সময়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিএনপি সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধ দমনে দুর্বলতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অভাবের কারণে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যৌতুকের কারণে ১৯ জন নারী নিহত হয়েছেন, ৮ জন আহত হয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে ৩ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩২০ জন নারী, আহত হয়েছেন ২১১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন আরও ১৪৭ জন। একই সময়ে এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।
শিশু নির্যাতনের চিত্রও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৭২ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালের একই সময়ে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ৬৭৩ জন এবং নিহত হয়েছিল ১৩২ জন।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
কেবল অপরাধের পর মামলা দায়ের করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দিতে পাচ্ছে না।


