দেশজুড়ে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটলেও সাধারণ গ্রাহকের জন্য ব্যাংকিং সেবার ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটিএম থেকে নিজ ব্যাংকের টাকা উত্তোলন কিংবা ডিজিটাল পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ নেই বললেই চলে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার, আন্তঃব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ক্যাশ-আউট এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবায় গ্রাহকদের নানা ধরনের ফি ও চার্জ গুনতে হচ্ছে।
দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার ঘটলেও লেনদেনের প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে হাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ দিতে হয়, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া এক ব্যাংকের এটিএম কার্ড দিয়ে অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুললেও নির্ধারিত ফি কেটে নেওয়া হয়। বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায়ও লেনদেনভেদে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা এসব চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না রেখেই সেবা ব্যবহার করেন।
ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে হলে সেবার খরচ কমানো জরুরি। কারণ নগদবিহীন অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জন করতে চাইলে গ্রাহকদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও স্বল্পব্যয়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মানুষ আবারও নগদ লেনদেনের দিকেই ঝুঁকতে পারে।
অন্যদিকে ভারতে ইউপিআই (UPI)-ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ লেনদেন বিনামূল্যে সম্পন্ন করা যায়। ফলে সেখানে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এবং নগদের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কমেছে।
বাংলাদেশেও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হলে অপ্রয়োজনীয় চার্জ পুনর্বিবেচনা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও কম খরচে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।


