বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে ফাইনালিস্ট দুই দেশ- আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও। ফুটবলপ্রেমে দুই দেশের জনপ্রিয়তা থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্কের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে আমদানির পাল্লা ভারী, আর স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক মূলত রপ্তানিনির্ভর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৭৮ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় ১.২ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের ১৭তম বৃহৎ আমদানির উৎস। দেশটি থেকে প্রধানত ভোজ্যতেল, গম, ভুট্টা, পশুখাদ্য ও তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল তুলা আমদানি করা হয়। এর মধ্যে শুধু ভেজিটেবল অয়েলই মোট আমদানির প্রায় ৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে রপ্তানির ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনও সীমিত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে মাত্র ৩ কোটি ৪৯ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর বেশিরভাগই তৈরি পোশাক; পাশাপাশি কিছু পাটজাত ও অন্যান্য সাধারণ পণ্যও রপ্তানি করা হয়।
তবে আর্জেন্টিনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে। বাজার বৈচিত্র্য আনার কৌশলের অংশ হিসেবে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে।
অন্যদিকে স্পেন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জার্মানির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি বাজার স্পেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্পেনে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।
স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মূলত রপ্তানিনির্ভর। দেশটি থেকে আমদানি হয় তুলনামূলক খুবই কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্পেন থেকে আমদানি হয়েছে মাত্র ১৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য। প্রধান আমদানির মধ্যে রয়েছে বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ওষুধ ও কসমেটিকস।
এদিকে লাতিন আমেরিকার আরেক ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। গত অর্থবছরে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, বিপরীতে ব্রাজিল থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে নামলেও, বাণিজ্যের অঙ্কে বাংলাদেশের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের চিত্র একেবারেই আলাদা। আর্জেন্টিনার সঙ্গে আমদানিনির্ভর সম্পর্কের বিপরীতে স্পেন বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


