রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি নগরজুড়ে নিয়মিত টহলও চলছে।
শুক্রবার রাজধানীর অন্তত সাতটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই দিন কাফরুলে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হন।
ডিএমপি জানায়, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন অভিযোগে ৪৭টি মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগে ৩৪, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৭৬, তেজগাঁওয়ে ৯২, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৩৭ এবং উত্তরা বিভাগে ৪৬ জন রয়েছেন। এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আরও ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০টি গুলি, তিনটি চাপাতি ও পাঁচটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরিত ককটেল থেকে ৫৩টি লোহার পেরেকও উদ্ধার করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা, ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন, তিন বোতল বিদেশি মদ ও ২০ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনার পর নগরজুড়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।


