ট্যাব-স্মার্ট ক্লাসরুমসহ প্রযুক্তি অবকাঠামোয় হাজার হাজার কোটি টাকার বিপুল ব্যয়ের প্রস্তাব
দেশের প্রায় ২ কোটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিফায়েড এডু আইডি ও স্মার্ট কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এডু আইডি, স্মার্ট কার্ড, কেন্দ্রীয় সার্ভার ও ডেটাবেইস তৈরিতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এই খাতেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।
তবে এত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব সামনে আসায় প্রকল্পটির ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে এসেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রস্তাবিত ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ স্থাপন’ প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় ৭ লাখ শিক্ষককে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ট্যাবলেট দেওয়ার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে আরও ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ এডুকেশন প্যানেল স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০০ Mbps ব্রডব্যান্ড, ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক, বিনামূল্যের Wi-Fi এবং কেন্দ্রীয় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকারের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকায় এর স্বচ্ছতা, প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে কীভাবে- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ২ কোটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা তৈরিতে ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পুরো প্রকল্পে ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত ব্যয় কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাবে, তা নিয়ে বিস্তারিত যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।


