মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরাকে ইরান-সমর্থিত একটি আধাসামরিক জোটের বিভিন্ন ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)।
বুধবার (২৯ জুলাই) পরিচালিত এই হামলার পর অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদ দাবি করেছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
পিএমএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। জোটটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একযোগে বাগদাদ, উত্তরাঞ্চলের নিনেভ, দক্ষিণের বসরাসহ মোট সাতটি প্রদেশে তাদের বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) ২০১৪ সালে ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটিকে দেশটির সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে এর অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি ব্রিগেড ইরান-সমর্থিত এবং তারা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
গত সোমবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরাকের দিক থেকে উড়ে আসা কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ওই ড্রোনগুলোর লক্ষ্য ছিল সৌদির গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম স্থাপনা। যদিও সে সময় ইরাকের কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়।


