খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে অভিযুক্ত আবুল হাশেমকে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলমান থাকার মধ্যেই এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আগের ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে ৮ সদস্যের নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান দাউদকান্দির গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশেম।
তবে আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার সংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির ১০ শতাংশ তিনি কৌশলে নিজের নামে বন্দোবস্ত ও রেকর্ড করে সেখানে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করছেন।
১৯৮৮ সালে ভূমিহীন মাসুদ আলমের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া ওই জমি পরবর্তীতে বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে স্থানান্তর করেন আবুল হাশেম। এরপর প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। বর্তমানে ভবনটির তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি খাস জমির বন্দোবস্ত একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে এভাবে পরিবর্তনের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং ভূমি জালিয়াতি প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল বা জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আবুল হাশেম প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
অন্যদিকে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, দলীয় কমিটি গঠন একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। আবুল হাশেম আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে দল তা বিবেচনা করবে।
দুর্নীতি, ভূমি দখল বা জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদে নিয়োগের ঘটনা জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালত বা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তাই অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।


