গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় রাম বিগ্রহ নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানান তারা।
সোমবার (তারিখ) বিকেলে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর শ্রীশ্রী রাধা-গোবিন্দ কালী মন্দিরের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বী অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী রাধা-গোবিন্দ কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিপিন চন্দ্র দাস, ভক্ত রামু চন্দ্র দাস, কৈলাশ চন্দ্র দাস, মনোরঞ্জন দাস ও সঞ্জয় দাস।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করায় এলাকাবাসী ও ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিপিন চন্দ্র দাস বলেন, “হরিদাসের শ্রম ও মেধায় এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার অবদান কখনো বিফলে যাবে না। আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করা হয়েছে। আমরা এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও দাবি করেন, হরিদাস চন্দ্রকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে। তারা অবিলম্বে তার মুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
রোববার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। একই রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে তিনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এদিকে তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত মুক্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।


