দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত স্থিতিশীল গণতন্ত্রেরপথে পদক্ষেপ নয়বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে যখন “প্রধান উপদেষ্টা” হিসেবে সরকারপরিচালনার দায়িত্ব নিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, তখন অনেকেই আশা করেছিলেন স্বাধীনতার পরথেকে যে দোলাচলপূর্ণ স্বৈরশাসন চলছে, সেখান থেকে মুক্তির পথ তৈরি হবে। তার নেতৃত্বাধীন নতুনসরকারে যোগ দেন তরুণ ও আপাতদৃষ্টিতে আদর্শবাদী ছাত্রনেতারা, যারা শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলেরঅবসান ঘটানো আন্দোলন থেকে উঠে এসেছিলেন। অনেকে ভেবেছিলেন, ধুলা-মাটি ঝরে গেলে হয়তোবাংলাদেশে আবার এক প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের উত্থান ঘটবে।কিন্তু সেই আশা এক বছরেরও কম সময়ে ভেঙে যায়। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা দেশের সন্ত্রাসবিরোধীআইনের আওতায় শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এটি…
Author: Desk Report
দেশের প্রাচীনতম দলকে নিষিদ্ধ করা স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পথে বিনিয়োগকারীরা যে পদক্ষেপ আশাকরেছিলেন, তা নয়।যখন বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকে “প্রধান উপদেষ্টা” হিসেবে সরকারপরিচালনার জন্য দেশে ডাকা হলো, তখন অনেকেরই আশাবাদ ছিল যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকেচলে আসা টালমাটাল স্বৈরশাসনের দুষ্টচক্র থেকে দেশ অবশেষে বেরিয়ে আসবে। তাঁর নতুন সরকারে অনেকতরুণ ও আপাতদৃষ্টিতে আদর্শবাদী ছাত্রনেতা যুক্ত হয়েছিলেন—যাঁরা দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলন থেকে উঠে এসেছিলেন। মনে করা হচ্ছিল, হয়তো ধুলা ঝরে গেলেবাংলাদেশে আবারও একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটবে।কিন্তু সেই আশার স্থায়িত্ব ছিল না এক বছরও। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনব্যবহার করে হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।…
অবৈধ ইউনুস সরকারের ছত্রছায়ায় জঙ্গি উত্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি✍️ ইঞ্জি. শফিক ইসলাম (রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাকশন কাউন্টার টেররিজম সার্টিফাইড প্রফেশনাল,যুক্তরাজ্য) অবৈধ দখল ও জঙ্গিদের উত্থান৫ আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে হিজবুত তাহরীর, জামায়াত-ই-ইসলামী, হেফাজতেইসলামসহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ‘তাওহিদি জনতা’র ব্যানারে একধরনের জনতার সন্ত্রাস কায়েম হয়েছে। ভূরাজনীতিতে নতুন অশনি সংকেত তুরস্ক ও পাকিস্তানের আইএসআই-এর সহায়তায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। ৫০,০০০ প্রশিক্ষিত বিহারি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে পুলিশ স্টেশন ও অস্ত্রাগারে হামলাচালিয়েছে। আধুনিক অস্ত্র ও ড্রোন কেনার আড়ালে সন্ত্রাসী চুক্তির অভিযোগ উঠছে। নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর উত্থান ২০২৪ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ২,২০০ হামলার রেকর্ড। …
✍️ ইঞ্জিনিয়ার শফিক ইসলাম (রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য)ভূমিকা২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ভূমিকম্প হলো, তা দেশের ইতিহাসে অন্যতমঅস্থির অধ্যায়। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণআন্দোলন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে পদত্যাগও নির্বাসনে যেতে বাধ্য হলে নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটিঅন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সামাজিক উদ্ভাবনের বিশ্বখ্যাত প্রবক্তা হিসেবে নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিনিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কার, জাতীয় ঐক্য ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্বপান।কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দেশি-বিদেশি বিতর্কে তাঁর প্রশাসন জড়িয়ে পড়ে। বিশেষত শেখ হাসিনারআওয়ামী লীগ ও মিত্রগোষ্ঠীর অভিযোগ—ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নব্য-ফ্যাসিবাদীচর্চায় লিপ্ত: ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, মতদমন, বিচারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও উগ্র/সাম্প্রদায়িক শক্তিকেপ্রশ্রয়। রাজনীতির বাইরে গিয়েও অভিযোগ ওঠে—অর্থনৈতিক অধঃপতন,…
✍️ শফিক ইসলাম (রাজনৈতিক বিশ্লেষক)ব্রিটিশ আইন সংস্থা ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) বিধিমালার ধারা১৫ অনুযায়ী একটি কমিউনিকেশন প্রস্তুত করছে। ধারা ১৫–এর আওতায় আইসিসির এখতিয়ারভুক্তalleged (আভিযোগিত) অপরাধের শিকাররা এসব অপরাধ প্রসিকিউটরের নজরে আনতে এবং তদন্তেরআবেদন করতে পারেন।২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. ইউনূস বাংলাদেশের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য,সরকারি কর্মচারী, প্রগতিশীল কর্মসূচির সমর্থক ও কর্মী, সংখ্যালঘু এবং সাবেক সরকারদল আওয়ামীলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় সহিংস হামলা ঘটেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— হত্যা, মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় নির্বিচার কারাবন্দি করা (বিশেষত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে), পরিকল্পিত লুটপাট, অপ্রতিরোধ্য মব হিংসা, রাষ্ট্রপৃষ্ঠপোষক নির্যাতন ও ভাঙচুর, এবং …
✍️ ইঞ্জিনিয়ার শফিক ইসলাম (রাজনৈতিক বিশ্লেষক)ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান আধুনিক ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র অর্থায়নেরধারণার পথিকৃৎ হওয়ার জন্য। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। “প্রদীপের নিচেই সবচেয়েঅন্ধকার”—এই প্রবাদবাক্যের আলোকেই গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টির কিছু অল্প-পরিচিত তথ্য ও সংশ্লিষ্টবিষয়ে আলোকপাত করে পাঠকদের সামনে ড. ইউনূস সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা উপস্থাপনই এইলেখার লক্ষ্য। গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্ভব: রাষ্ট্রের বিশেষ সুরক্ষা ও সুবিধাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সহজ-শর্তে ঋণদেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সালে ড. ইউনূস একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেন, যা ১৯৭৯ সালে টাঙ্গাইলেসম্প্রসারিত হয়। সফলতার পর তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ ও আদায় নিশ্চিত করতেবাংলাদেশ সরকার প্রকল্পটিকে ব্যাংকে রূপান্তরের উদ্যোগ…
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গত ১২ মাসে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মোট ১২টিদেশ সফর করেছেন—যুক্তরাষ্ট্র, আজারবাইজান, মিসর, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন,থাইল্যান্ড, কাতার, ভ্যাটিকান সিটি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া।যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া সফর বাদ দিয়ে বাকি ১০টি সফরের খরচ প্রায় ২,৬০৮ কোটি টাকা (২৬ মিলিয়নমার্কিন ডলার)। এ সময় তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন ৭০ দিন। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ এসব সফরথেকে কী পেয়েছে? কনফারেন্সে যোগ, ছবি তোলা, অথচ অর্জন শূন্যড. ইউনূসের প্রথম ১১টি সফরের বেশিরভাগই কোনো বিদেশি সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে নয়; বরংআন্তর্জাতিক সংস্থার কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার জন্য। কয়েক ক্ষেত্রে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট বাজাপানের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ছবি তুলেছেন। এ ধরনের সফরে সরকার-সরকারি কোনো…
✍️ লেখক: ইঞ্জিনিয়ার শফিক ইসলাম (রাজনৈতিক বিশ্লেষক)ড. মুহাম্মদ ইউনুস যখন জোরপূর্বক বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, এটি শুধুঅপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না—বরং ছিল এক পরিকল্পিত ইসলামপন্থী পুনরুত্থানের সূচনা।শুরু থেকেই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল যে এই সরকার জঙ্গিবাদী উপাদানকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেবে।কারণ ইউনুস ক্ষমতায় এসেছেন সেই রাজনৈতিক মহল ও নেটওয়ার্কের সমর্থনে, যারা বহু বছর ধরে উগ্রইসলামপন্থার সঙ্গে জড়িত। মুফতি রহমানীর মুক্তি: জঙ্গি তুষ্টির প্রথম সংকেতইউনুস ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৬ দিনের মাথায়, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের(এবিটি) প্রধান মতাদর্শী মুফতি জাসিমউদ্দিন রহমানী জামিনে মুক্তি পান। আল-কায়েদার প্রচারকআনোয়ার আল-আওলাকির অনুসারী রহমানী ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার হত্যায় প্ররোচনার দায়েদণ্ডপ্রাপ্ত।তার মুক্তির পরপরই একটি…
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD), যা অসাংবিধানিক ও অবৈধ ইউনূস সরকারেরঅধীনে পুনর্গঠিত হয়েছে, এখন একটি “ক্যাঙ্গারু কোর্ট”-এ রূপ নিয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট ও অনুগত বিচারকএবং প্রসিকিউটরদের মাধ্যমে পরিচালিত এ আদালত কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মতন্যায়বিচার দিতে সক্ষম নয়। পক্ষপাতদুষ্ট প্রসিকিউটররাইউনূস সরকার জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টির (জামায়াতের ভিন্নধারা) দীর্ঘমেয়াদি কর্মী অ্যাডভোকেটতাজুল ইসলামকে প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণহত্যাও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। তাজুল ছাড়াও ICT-BD’রঅন্যান্য প্রসিকিউটরদেরও জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদেরপক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার রেকর্ড রয়েছে।এছাড়া বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ যুদ্ধাপরাধীদের আন্তর্জাতিক লবিস্ট টবি ক্যাডম্যানকেওপ্রসিকিউশনের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—যা প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যের পূর্ণতা ঘটিয়েছে।তাজুল…
১৯৯০ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মাসিক৬,০০০ টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত বেতন–ভাতা গ্রহণ করে এ পদেছিলেন। তাঁর এমডি থাকা সময়ে এবং পরবর্তীকালে তিনি যে বিপুল সম্পদ সঞ্চয় করেছেন বলে অভিযোগরয়েছে, তার একটি আংশিক তালিকা নিচে উপস্থাপিত হলো— o স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক: হিসাব নং 18121274701 o সাউথইস্ট ব্যাংক: হিসাব নং 0212100020061 o রূপালী ব্যাংক: হিসাব নং 0489010008096 o হিসাব নং 73300000339 — ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা o হিসাব নং 90303160910 — ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা সূত্র:(ক) বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)(খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ও সংশ্লিষ্ট আয়কর…

