কক্সবাজারের মহেশখালীতে নিজ বাসগৃহে ঢুকে শ্রীমতি শিল্পী রানী শীল(৫০) নামে এক হিন্দু নারীকে ধারালো অস্ত্র নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা । সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পদ্মপুকুর পাড় এলাকার শীল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সময় শিল্পী রানী শীল নিজ বাড়িতে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিল্পী রানীকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চকরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিজ বাসগৃহে অবস্থানরত একজন নারীকে এভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, নিহত শিল্পী রানী সুশীল হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত শিল্পী রানী সুশীল ছিলেন মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের পদ্মপুকুর পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং পদ্মপুকুর পাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা শ্রী রবীন্দ্র লাল সুশীলের সহধর্মিণী।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
একজন নাগরিকের নিজ ঘরে নিরাপত্তা না থাকা এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া- দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।


