দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে তিনটি বিদেশি স্ক্র্যাপ জাহাজে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মালামাল খোয়া গেছে। ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সংঘটিত এসব ঘটনায় এখনো কোনো মামলা না হওয়ায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় জাহাজ মালিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
জাহাজগুলো ভাঙার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল। জলদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে জাহাজে উঠে মূল্যবান যন্ত্রাংশ, স্পেয়ার পার্টস, ব্যাটারি, মুরিং রোপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। একটি জাহাজ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার করা হলেও অধিকাংশ লুট হওয়া সম্পদের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
প্রথম ঘটনা ঘটে ২৯ জুন রাতে। চট্টগ্রাম বন্দরের চার্লি অ্যাংকরেজে নোঙর করা এমভি হাই জু জাহাজে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দস্যুদল হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট করে। পরদিন একই এলাকায় এমটি আইরোস জাহাজ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় দস্যুরা। পরে পুলিশ কিছু মালামাল উদ্ধার করে। সর্বশেষ ১৬ জুলাই ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার তাই শুয়েনে-তে হামলা চালিয়ে অন্তত চার কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট করা হয়।
জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনার সময়ই জাহাজের ক্যাপ্টেনরা দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দস্যুরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেকেই মামলা করতেও আগ্রহ দেখাননি।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নৌপরিবহণমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে বহির্নোঙরে জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আন্তর্জাতিক সংস্থা রিক্যাপের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাকে নিরাপদ হিসেবে মূল্যায়ন করা হলেও সাম্প্রতিক ধারাবাহিক লুটের ঘটনা সেই সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ধারাবাহিক এসব জলদস্যুতা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ব্যবসায়ী মহলের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বহির্নোঙরে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে জাহাজ আমদানি, শিপ রিসাইক্লিং শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।


