২০ কেজির বদলে ১০ কেজি চাল পেলেন অসহায় মানুষ; বিএনপি-পন্থী পৌর সচিবের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দের জি.আর. (গ্র্যাচুইটাস রিলিফ) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার বিএনপি-পন্থী সচিব আব্দুর রহমান রহিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীর ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ কেজি করে। ফলে বরাদ্দের বড় একটি অংশের চাল কোথায় গেছে, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য বিএনপি-পন্থী পৌরসভার সচিবের নামে ৬৮০ কেজি জি.আর. চালের ডিও অনুমোদন করা হয়। সেই হিসেবে ৩৪ জন সুবিধাভোগীর প্রত্যেকের ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ডিজিটাল স্কেলে নির্ধারিত পরিমাণ ওজন না করে ৩০ কেজির একটি বস্তা তিনজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তি পান মাত্র ১০ কেজি চাল।
মোট ২৭ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ২৭০ কেজি চাল। বাকি ৪১০ কেজি চালের কোনো হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। এই চাল কোথায় গেছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ৮০ বছর বয়সী ছায়েরন বেগম বলেন, “২০ কেজি চাল পেলে কয়েক সপ্তাহের খাবারের নিশ্চয়তা হতো। কিন্তু আমাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ কেজি।” আরেক ভুক্তভোগী শিখা বেগম জানান, প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সরকারি বরাদ্দের পুরো চাল না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আরও সংকটে পড়েছেন। দিনমজুর বেবি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরিবের হক মারতে সবাই হা করে থাকে। আমাদের প্রাপ্যটুকুও ঠিকমতো দেয় না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ পৌরসভার বিএনপি-পন্থী সচিব আব্দুর রহমান রহিম চাল বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও বাকি চালের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। সরকারি ত্রাণের চাল নিয়ে এমন অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা আত্মসাৎকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং আত্মসাৎ হওয়া চালের সুষ্ঠু হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।


