পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (পিওকে) নিরাপত্তা বাহিনী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। সংঘর্ষে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সহিংসতা নতুন করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাওলাকোট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর ডাকা কর্মসূচির আগে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আঞ্চলিক পরিষদে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার ফলে কাশ্মীরের জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত হয়ে পড়ছে। এর প্রতিবাদেই কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
পুঞ্চের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান জানান, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহর আটকে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, যার ফলে সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এছাড়া রাওলাকোটে পৃথক সংঘর্ষে একজন আন্দোলনকারী এবং একজন নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারান। গত জুন মাস থেকে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গত জুনে নিষিদ্ধ হওয়া যৌথ অ্যাকশন কমিটি (JAAC) বুধবার রাওলাকোটে বৃহৎ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই বিক্ষোভকারীদের শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম ঘাঁটি বলে ভারত অভিযোগ করে আসছে। পাকিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বহুবার আলোচনায় এসেছে। তবে বর্তমান সংঘর্ষটি মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিতর্কিত নির্বাচনী কাঠামো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


