অক্টোবরে ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা, শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে তারিখ
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। সমঝোতা হলে আগামী অক্টোবর থেকেই মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হতে পারে বলে সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এখনো ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
রেলমন্ত্রীও জানিয়েছেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা-কলকাতা সরাসরি রেল যোগাযোগ আবারও সচল হওয়ার আশা জোরালো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুধু মৈত্রী এক্সপ্রেস নয়, বন্ধ থাকা আরও দুটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন- খুলনা-কলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটের মিতালী এক্সপ্রেস- পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে এসব ট্রেন বন্ধ থাকায় চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, পর্যটন ও পারিবারিক প্রয়োজনে দুই দেশের মানুষের যাতায়াতে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হলে দুই দেশের সাধারণ যাত্রীদের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটেও বর্তমানে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশিত রয়েছে এবং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৮ জুলাই ২০২৪ থেকে এসব আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রা স্থগিত রয়েছে।
মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর পাশাপাশি এর রুট নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ঢাকা-কলকাতা ট্রেনটিকে যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার প্রস্তাব দিতে পারে। নতুন রুট বাস্তবায়িত হলে যাত্রাপথ ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু পুরোনো রেল যোগাযোগ ফিরিয়ে আনা নয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারতের রেল নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ দুই দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম। সড়কপথের তুলনায় ট্রেনে দীর্ঘ যাত্রা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হওয়ায় চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের কাজে যাতায়াতকারী মানুষের কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দীর্ঘদিন ট্রেনটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের একটি বড় অংশকে বাস কিংবা বিমানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের আলোচনায় অক্টোবর থেকে ট্রেনগুলো চালুর সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরই চালুর তারিখ ঘোষণা করা হবে। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ঘোষণা খুব শিগগিরই আসতে পারে।


