পটুয়াখালীর বাউফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘জীবন্ত পুড়িয়ে মারার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন গোবিন্দ। এরই মধ্যে কথোপকথনের প্রায় দুই মিনিটের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অডিওতে এক ব্যক্তিকে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, “আমার একটা শখ জাগছে… আমি একটা জ্যাতা পুড়মু, এ ক্ষেত্রে আপনারে বাইছা নিছি।” একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, “আপনাকে মরার পর পোড়ে, আমি আপনারে মরার আগেই পুড়তে চাই।” গোবিন্দের দাবি, ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি ফরিদ উদ্দিন গাজী।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এলাকায় তাঁর গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসাও রয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুনও টানিয়েছেন।
গোবিন্দের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর দাবি, এর আগেও ফোনে তাঁকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই কথোপকথন রেকর্ড করতে না পারলেও সাম্প্রতিক ফোনালাপটি রেকর্ড হয় বলে জানান তিনি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় অভিযোগটি স্থানীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে একজন হিন্দু ব্যবসায়ীকে তাঁর রাজনৈতিক প্রার্থিতা ঘিরে এমন গুরুতর প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ সত্য হলে, তা একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার এবং রাজনৈতিক পরিবেশ- তিন ক্ষেত্রেই গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদ উদ্দিন গাজীকে একটি চেক প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বলে বাউফল থানার পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ব্যবসায়ী গোবিন্দের করা জিডির বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেছেন, হুমকির পর তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর দাবি, “ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য আমি শঙ্কিত।”
বাউফলের এই ঘটনা তাই এখন কেবল একটি ফোনালাপ বা ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগ নয়। একজন হিন্দু নাগরিক ও সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ, এর পেছনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পূর্বের চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং একই সঙ্গে সংখ্যালঘু নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন- সব মিলিয়ে ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি সামনে এসেছে।


