বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্ব এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মোট দেশজ উৎপাদন বা নমিনাল জিডিপির হিসাবে ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। এরপর রয়েছে চীন, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রক্ষেপণেও বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তির এই চিত্র উঠে এসেছে।
আইএমএফের এপ্রিল ২০২৬-এর World Economic Outlook- ভিত্তিক হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অর্থনীতির আকার প্রায় ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের অর্থনীতি প্রায় ২০.৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার। দুই দেশের অর্থনীতির আকারের ব্যবধান প্রায় ১১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি ৫.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর জাপান ৪.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য ৪.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার সম্ভাব্য জিডিপি নিয়ে ভারত রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। অর্থাৎ ভারতের অর্থনীতির আকার যুক্তরাজ্য ও জাপানের চেয়ে কিছুটা ছোট হলেও দেশটি বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
নমিনাল জিডিপি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির আকার বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের সরাসরি পরিমাপক নয়। জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয়, ক্রয়ক্ষমতা, মূল্যস্তর ও আয়বণ্টনের মতো বিষয় বিবেচনায় নিলে দেশগুলোর অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে Purchasing Power Parity (PPP) হিসাবে চীন ও ভারতের অবস্থান নমিনাল জিডিপির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
অন্যদিকে, আইএমএফের জুলাই ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে প্রায় ৩ শতাংশ হতে পারে। যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে; একই সময়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বিনিয়োগ কিছু অর্থনীতিকে বাড়তি গতি দিচ্ছে।


