ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া একটি নবজাতকেরও গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওই দম্পতি যে কক্ষে থাকতেন, সেটি বেশ কিছু সময় ধরে তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে কক্ষের ভেতর থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি খুলে ভেতর থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সেখানে নবজাতকের গলিত মরদেহও পাওয়া যায়।
আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তালাবদ্ধ কক্ষ খুলে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোতে পচন ধরেছিল।
ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড- এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না পুলিশ। মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ফরেনসিক দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় এবং তাদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি একটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। শিশুটির জন্ম কবে এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দম্পতির পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রাথমিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ হিসেবে চিহ্নিত করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


