পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের টান্ডো আল্লাহইয়ার জেলায় মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ছয়জন হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। তবে ছয়জনের এই সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে পুলিশ বা সরকারি নথি দিয়ে নিশ্চিত করা যায়নি।
সাম্প্রতিক ঘটনায় সীতা ও রূপি নামে দুই হিন্দু বোনকে অপহরণের পর ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৩ ও ১৪ বছর বলে দাবি করা হচ্ছে। পরিবার ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, টান্ডো আল্লাহইয়ারের ইব্রাহিম কলোনি থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয় এবং পরে ধর্মান্তরণ ও বিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি আদালত পর্যন্ত গড়ালে দুই কিশোরী বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে আকুতি জানায়। প্রকাশিত ভিডিওতে তাদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তারা বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও আদালত তাদের আপাতত একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফ হাউস) পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অধিকারকর্মীরা দুই কিশোরীর বয়স, বক্তব্য ও পুরো ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে একই জেলায় ১৪ বছর বয়সী পনসি কোহলি নামের আরও এক হিন্দু কিশোরীকে ৯ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপরই স্থানীয় সূত্র ও অধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ১০ দিনে ওই এলাকায় মোট ছয়জন হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্মান্তরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই দাবিরও এখন পর্যন্ত স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের হিন্দু জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বসবাস সিন্ধু প্রদেশে। টান্ডো আল্লাহইয়ারসহ সিন্ধের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু কিশোরীদের অপহরণ, ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগ নতুন নয়। সর্বশেষ ঘটনাগুলো ফের সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, নাবালিকাদের সুরক্ষা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
কিশোরীদের বয়স সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই, কোনো ধরনের চাপমুক্ত পরিবেশে তাদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে পুলিশ ও আদালতের পক্ষ থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।


