সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আবারও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত দুই বছরে রাজনৈতিক মামলায় আটক অন্তত ৭৩ জন আওয়ামী লীগ নেতা কথিত অসুস্থ হয়ে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই চিকিৎসায় কোনো অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক বাবলু মণ্ডল (৫২)। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২২ জুন তিনি কারাগারে যান। বুধবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বাবলু মণ্ডলের ছেলে সাগর আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বাবার আগে কোনো গুরুতর অসুস্থতা ছিল না। পরিবারের কাউকে শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়ে আগেভাগে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি কয়েকদিন আগেও সাক্ষাতের সময় বাবাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখেছেন বলে দাবি করেন।
এর আগে গত ১৫ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম লিটন (৪৭)। পরিবারের অভিযোগ, হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে যথাসময়ে অবহিত করা হয়নি এবং যথাযথ চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এরও আগে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমেদ মোস্তফা খান বাচ্চু। তিনটি ক্ষেত্রেই অসুস্থ হওয়ার পর কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তাদের মৃত্যু ঘটে।
পরপর তিন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুর ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই দাবি করেছে, বন্দিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের অবহেলা হয়নি। অন্যদিকে স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এসব প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।


