চুক্তি থেকে বিল-প্রতিটি ধাপে ১ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ, ঘুষ না দিলে আটকে রাখা হয় কাজ ও বিল; ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যেন ঘুষের এক অঘোষিত কেন্দ্র হয়ে উঠেছে- এমন অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে বৈধভাবে কাজ পাওয়ার পরও চুক্তি, কার্যাদেশ, বিল, জামানত উত্তোলনসহ প্রতিটি ধাপে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। ঘুষ না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা, কাজে বাধা সৃষ্টি এবং বিলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের জন্য অফিসের হিসাব সহকারী কর্মকর্তা এনামুল হকের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ত্রিশাল এলজিইডির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। গোপনে ধারণ করা প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের বিষয়ে এনামুল হক বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ খন্দকারের সময় বরাদ্দের ২ শতাংশ কমিশন ছাড়া বিল পাওয়া যেত না। তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর বদলি হলেও বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেনের সময়ও একই সংস্কৃতি বহাল রয়েছে। তবে এখন বরাদ্দের ১ শতাংশ করে কমিশন নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বর্তমানে ত্রিশালে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, এডিপি ও রাজস্বসহ ৩২টি প্যাকেজের উন্নয়নকাজ চলমান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্পে চুক্তি, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার ও জামানত উত্তোলনের প্রতিটি ধাপেই ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ঠিকাদাররা। এমনকি ৬ লাখ টাকার জামানত তুলতেও ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ঠিকাদার পাঁচ হাজার টাকা দিতে চাইলে হিসাব সহকারী এনামুল হক বলেন, এত কম টাকায় ফাইল ছাড়বে না এবং ‘স্যারের’ নির্দেশ অনুযায়ী আরও বেশি টাকা লাগবে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত টাকা না দিলে ফাইল আটকে যাবে।
একাধিক ঠিকাদার জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর পাশাপাশি সহকারী প্রকৌশলীদেরও কমিশন দিতে হয়। অন্যথায় ভালো কাজেও অযথা ত্রুটি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় অথবা বিল আটকে রাখা হয়। ফলে হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির অবসান না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ঠিকাদার এমদাদুল হকের অভিযোগ, মোক্ষপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক সংস্কারকাজ চলাকালে টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর কাজ শুরু করতে দেওয়া হয়। বিল তুলতে গিয়ে আবারও ৫০ হাজার টাকা এবং জামানতের টাকা তুলতে আরও ৮০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর পাঁচটি প্রকল্পে বিভিন্ন সময়ে দুই লাখ টাকারও বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক ঠিকাদার।
এ বিষয়ে এলজিইডি ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে বরাদ্দের ১ শতাংশ কমিশন নেওয়ার কোনো বৈধ নিয়ম নেই।


