কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি নিয়ে শঙ্কা; রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ সংকটে নতুন উদ্বেগ
দেশজুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্প উৎপাদন। চাহিদার মাত্র ৫৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে। কোথাও গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে প্রায় শূন্যে, কোথাও প্রয়োজনীয় চাপের তুলনায় মিলছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ গ্যাস। ফলে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অনেক কারখানা বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ডিজেল, এলপিজি বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করলেও এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু উৎপাদন নয়, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত এবং দেশের সামগ্রিক শিল্পায়নই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বর্তমান সংকট এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগের দুর্বল প্রবাহ নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যবসায়ী মহলে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। নতুন বিনিয়োগকারীরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ খুঁজছেন, সেখানে দেশের বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোই যদি জ্বালানি সংকটে উৎপাদন চালাতে না পারে, তাহলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও শিল্পোদ্যোক্তারা।
বিপর্যস্ত বস্ত্র ও পোশাকশিল্প
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্যাসনির্ভর বস্ত্র, স্পিনিং, ডায়িং ও ফিনিশিং শিল্প। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) জানিয়েছে, শিল্পাঞ্চলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে অনেক কারখানায় ১০ পিএসআইজি পর্যন্ত গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে তা নেমে এসেছে ১ থেকে ১ দশমিক ৫ পিএসআইজিতে। কোনো কোনো কারখানায় চাপ রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ পিএসআইজি।
নারায়ণগঞ্জের ভূলতায় লিটল গ্রুপের ইন্টিমেট স্পিনিং মিলস এবং সাভারের লিটল স্টার স্পিনিং মিলসে দিনভর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান এম খোরশেদ আলম জানান, ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার, ব্যাটারি ও বিদ্যুতের সমন্বয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় সেই ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে গত দুই দিনে গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ডায়িং কারখানা কার্যত বন্ধ ছিল। সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস এনে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার যে বিকল্প ব্যবস্থা ছিল, গ্যাস সংকটের কারণে সেটিও এখন অচল। ফলে ডায়িং, ফিনিশিং ও আয়রনের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন। এমনকি মূল্য কমানোর চাপও আসতে পারে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, তীব্র গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে দেশের অন্তত ১২১টি স্পিনিং মিল উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
গাজীপুরে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্য
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজীপুরেও গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে দৈনিক প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট।
কোনাবাড়ীর তুসুকা গ্রুপের পরিচালক তারেক হাসান জানান, তাদের কারখানা চালাতে ১৫ পিএসআই গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে গ্যাসের চাপ ছিল শূন্য। উৎপাদন সচল রাখতে পাঁচটি ডিজেলচালিত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ১১ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
মৌচাকের সাদমা ফ্যাশন ওয়্যার লিমিটেডের পরিচালক সোহেল রানা বলেন, প্রয়োজনীয় ৪ পিএসআই গ্যাসের বিপরীতে তারা পাচ্ছেন মাত্র ১ পিএসআই। বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন চার লাখ টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তারপরও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
গাজীপুরের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানান, জেলা ও মহানগরে তিন হাজারের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বহু কারখানাই গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মুখে পড়েছে।
ভালুকায় বারবার থেমে যাচ্ছে উৎপাদন
ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটছে। জামিরদিয়ার নোমান কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল লিমিটেডের সিনিয়র জিএম রেদোয়ান আহাম্মেদ জানান, দিনে কয়েকবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে বারবার মেশিন থেমে যাচ্ছে এবং জেনারেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ডিবিএল গ্রুপের গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রির জিএম আনোয়ার হোসেন জানান, উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ না হলেও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জিএম মোকলেসুর রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় এমনিতেই বেড়েছে। এর সঙ্গে যদি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।
নারায়ণগঞ্জে ডায়িং ও নিটিং শিল্পে ধস
নারায়ণগঞ্জে গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ডায়িং ও নিটিং শিল্প। বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক জানান, তাদের কারখানায় ১৬ থেকে ১৮ পিএসআই গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ পিএসআই। ফলে গ্যাসচালিত জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ডিপিডিসির বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদনই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাসের চাপ হঠাৎ কমে যাওয়ায় ডায়িং করা কাপড়ের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রহমান নিট গার্মেন্টসের পরিচালক শিহাব উদ্দিন বলেন, ডায়িং সেকশনের অধিকাংশ শ্রমিক কয়েক দিন ধরে কার্যত বসে আছেন। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম বলেন, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের বাড়তি দাম এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, সব মিলিয়ে পোশাকশিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রি-রোলিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রশিদ জুয়েল জানান, পর্যাপ্ত কাজের অর্ডার থাকলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
সাভার-আশুলিয়ায় রপ্তানি নিয়ে শঙ্কা
সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের চাপ ওঠানামা করছে। সকালে গ্যাস থাকলেও দুপুরে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাতে আবার সামান্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক কারখানায় ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তা আবুল কাশেম জানান, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।
আল-মুসলিম গ্রুপের কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজের সংকটের মধ্যেই গ্যাস সমস্যা নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। সময়মতো রপ্তানি করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন। ইতোমধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।
লুসাকা গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মনিরুজ্জামান জানান, সারাদিন গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে এলপিজি ও ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু এই অতিরিক্ত ব্যয় বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
সার কারখানাতেও উৎপাদন বন্ধ
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সার শিল্পেও। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় গত ৪ মার্চ থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও কবে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কাফকোতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সেখানে উৎপাদন চলছে। ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কাঁচামালের সংকটে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
জ্বালানি সংকটে বিনিয়োগও অনিশ্চিত
চলমান গ্যাস সংকটে শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগের দুর্বল প্রবাহের মধ্যে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে শুধু বাজার বা শ্রমশক্তি দেখেন না; তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস, অবকাঠামো এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতাও বিবেচনা করেন।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, জ্বালানির নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে নতুন বিনিয়োগ আসবে না। বিদেশি বা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা যে কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেখানকার বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো কী পরিস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
ফলে বিদ্যমান শিল্পগুলো যখন গ্যাস সংকটে উৎপাদন চালাতে পারছে না, তখন নতুন বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ব্যাংকিং খাতেও বাড়ছে ঝুঁকি
শিল্প খাতের স্থবিরতার প্রভাব ব্যাংকিং খাতেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী। তিনি জানান, শুধু পর্যাপ্ত গ্যাস সংযোগ না থাকার কারণে তাদের ব্যাংকেরই প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে। গ্যাস সংযোগের অভাবে বিদেশ থেকে আমদানি করা বহু শিল্পযন্ত্র বছরের পর বছর অলস পড়ে আছে।
এসব শিল্পপ্রকল্প চালু হতে না পারলে উদ্যোক্তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একপর্যায়ে তা খেলাপি ঋণে পরিণত হলে ব্যাংকিং খাতেও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হবে।
দ্রুত সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা
শিল্প মালিকদের মতে, গ্যাস সংকট এখন আর কেবল একটি জ্বালানি সমস্যা নয়; এটি দেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
একদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোও পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে উৎপাদন চালাতে পারছে না। এর ফলে দেশের শিল্পখাত এক ধরনের ‘দ্বিমুখী চাপের’ মধ্যে পড়েছে।
শিল্পোদ্যোক্তাদের দাবি, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলভিত্তিক নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ গ্যাস সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধু আজকের উৎপাদনই থেমে থাকবে না, আগামী দিনের বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, কর্মসংস্থান এবং দেশের শিল্পায়নের গতিও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।


