দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প এখন গভীর সংকটে। একসময়ের বৈশ্বিক প্রথম বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ আবারও সেই অবস্থান হারিয়ে ভিয়েতনামের কাছে পিছিয়ে পড়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নীতিগত অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, আর্থিক সংকট এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত পরিবেশ দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যাকসেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) এক অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, দেশের পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দ্রুত পিছিয়ে পড়ছে। কার্যকর নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পমালিকদের বক্তব্যে উঠে আসে উদ্বেগজনক চিত্র। তাদের দাবি, ঋণ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জটিলতা, নীতিগত অস্থিরতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাবে শিল্পকারখানাগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে। তারা সতর্ক করে বলেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আসে শুল্ক বিভাগকে ঘিরে। বিপিএএমইএর সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মতি অভিযোগ করেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নবায়নের জন্য ব্যবসায়ীদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বছরে মাত্র ৫০ টন কাঁচামাল আমদানি করা ছোট ব্যবসাকেও ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়, অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা হয়। তিনি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় উৎপাদনকারীরা চরম চাপে আছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিল্প খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কার্যকর তদন্ত ছাড়া বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতের হারানো প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।


