ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। শিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন শিক্ষা সচিব হিসেবে নরেশ গাঙ্গওয়ারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এতদিন উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিনীত যোশিকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা নরেশ গাঙ্গওয়ার, যিনি এতদিন মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ বিভাগের সচিব ছিলেন।
এটি শুধু একটি বদলি নয়, বরং মোদি সরকারের বৃহৎ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ। এই রদবদলে মোট ১৩টি নতুন নিয়োগ এবং চার কর্মকর্তার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব টি কে অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়ে কেন্দ্র সরকার। বিরোধী দলগুলোও সরকারের সমালোচনা তীব্র করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে।
এ পরিস্থিতিতে বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই শিক্ষা সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন-শুধু অপরাধীদের নয়, অবহেলা বা গাফিলতি করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করেছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত একটি বিল সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
১৯৯২ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা বিনীত যোশি এর আগে মণিপুরের মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ), কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
অন্যদিকে নতুন শিক্ষা সচিব নরেশ গাঙ্গওয়ার ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা। তিনি রাজস্থানের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক, রাজ্য সরকারের শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা প্রশাসনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


