রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সে সংঘটিত হয়েছে এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা। গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে দুটি জুয়েলারি দোকানে হানা দিয়ে প্রায় ২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থেকেই মার্কেটের পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে এবং এটি সুপরিকল্পিত ডাকাতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত থেকে রোববার (২৬ জুলাই) ভোরের মধ্যে কোনো একসময় দারুস সালাম থানাধীন শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল রাজ্জাক জুয়েলার্স থেকে প্রায় ২০০ ভরি এবং এ হোসেন জুয়েলার্স থেকে ৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন জানান, ঘটনার ধরন ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই মার্কেটের পাঁচ নিরাপত্তাকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের ভূমিকা সন্দেহজনক হওয়ায় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মার্কেটের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি জুয়েলারি দোকানগুলোর পক্ষ থেকেও একজন নিরাপত্তাকর্মী রাতে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মিষ্টির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা দোকান দুটির তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
আল রাজ্জাক জুয়েলার্সের মালিক জসিম উদ্দিন দাবি করেন, মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকাতির ঘটনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে ঘটনার পর পুরো মার্কেটে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ডাকাতির প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


