ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড, অবিশ্বাস্য গোল আর জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন লিওনেল মেসি। তবে মাঠের বাইরেও যে তিনি কতটা মানবিক, সহানুভূতিশীল ও উদার-তার আরেকটি হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ সামনে এসেছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষে।
কেপ ভের্দের গোলরক্ষক ভোজ়িনহার পরিবারের চার সদস্য যাতে স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিজের অর্থে করে দেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পুরো বিষয়টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। আর্জেন্টিনা ফাইনালে পরাজিত হওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরে জানান, শুধু ভোজ়িনহার পরিবারই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক মানুষকে মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মেসি। যাঁদের পক্ষে দামী টিকিট কেনা সম্ভব ছিল না, তাঁদের জন্য নিজের অর্থে টিকিট কিনে সহায়তা করেছেন তিনি।
বহু মানুষ মেসির কাছে টিকিটের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব টিকিট কিনে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। কোনো প্রচার বা বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিঃস্বার্থ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই সহায়তা করেছিলেন।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় এসেছেন, অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জনে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু খ্যাতি, সাফল্য ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়। তাই অনেকের কাছে লিওনেল মেসি শুধু সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারই নন, একজন অসাধারণ মানুষও।
মেসির এই মানবিক উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল, প্রকৃত মহানতা শুধু ট্রফি, গোল কিংবা রেকর্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই একজন কিংবদন্তির প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। বিশ্বফুটবলে মেসির মতো প্রতিভাবান এবং একই সঙ্গে এতটা বিনয়ী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব সত্যিই বিরল-এমন মন্তব্য করছেন অসংখ্য সমর্থক।


