রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মরারপাড়া গ্রামের একটি নির্জন পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমেদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন একটি জমিতে কৃষিকাজের সময় স্থানীয় কয়েকজন তীব্র দুর্গন্ধ টের পান। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা পুকুরপাড়ে কচুরিপানার ওপর মানুষের একটি পা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কাছে গিয়ে একটি বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। পরে বস্তা খুলে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি মরারপাড়া গ্রামের লতারপাড়া এলাকার বাসিন্দা নার্গিস বেগম (৩৫), রাসেল মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী-স্ত্রী দুজনই ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়দের ধারণা, কয়েক দিন আগে অন্য কোথাও নার্গিস বেগমকে হত্যা করে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ওই নির্জন পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) রাসেল রানা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


