লক্ষ্মীপুরের রামগতি-চেওয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে কার্পেটিং, সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, যথাযথ তদারকির অভাব এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে কোটি টাকার এই প্রকল্প কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রামগতি কলেজ রোড, মনু মার্কেট, মুন্সিরহাট, বান্দেরহাট, গুচ্ছগ্রাম বাজার ও আজাদনগর সেতুসংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যান চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রামগতি থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে আগে যেখানে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগত, এখন বিকল্প পথে যেতে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। একই সঙ্গে বেড়েছে যাতায়াত খরচ ও দুর্ভোগ।
রামগতি বাজারের ব্যবসায়ী বিজয় মাহমুদ মামুন বলেন, “কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের এই অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়কই নষ্ট হয়ে যাবে।”
বড়খেরী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সড়কের ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি ওজনের ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় নতুন কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে।
চর আফজল এলাকার বাসিন্দা মো. সাবিদ জানান, ১৪-১৫ টনের বেশি ওজনের যান চলাচলের উপযোগী না হলেও প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ টন ওজনের অসংখ্য ইটবোঝাই ট্রাক এই সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে নতুন সড়কও অল্প সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. রাসেল বলেন, বড় বড় গর্তের কারণে বাধ্য হয়ে ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরও যদি কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।


