ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদাবাজি ও নারী কেয়ারটেকারকে জিম্মি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘শুটার বাপ্পি’ ও তার সহযোগীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে জিম্মি নারীকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পালিয়ে যায় বাপ্পি। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক ও কৌশলী অভিযানে জিম্মি নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার শরীফ চৌধুরী প্লাজার পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে শুটার বাপ্পি ও তার কয়েকজন সহযোগী শরীফ চৌধুরী প্লাজার পঞ্চম তলায় প্রবেশ করে ভবনের নারী কেয়ারটেকার লিমাকে জিম্মি করে। এরপর তারা ভবনের মালিকপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে জিম্মি লিমাকে সঙ্গে নিয়ে ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও লকারে টাকার খোঁজ করতে থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা ও জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি ঘিরে ফেলে। পরে শুরু হয় বিশেষ অভিযান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে শুটার বাপ্পি জিম্মি নারীকে সামনে রেখে মানবঢাল তৈরি করার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ৭ থেকে ৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
গোলাগুলির একপর্যায়ে জিম্মি নারীকে সামনে রেখে পালানোর চেষ্টা করে বাপ্পি। পরে কৌশলে নারীকে ছেড়ে দিয়ে সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অভিযান শেষে পুলিশ নিরাপদে কেয়ারটেকার লিমাকে উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরীফ চৌধুরী প্লাজার পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৭ থেকে ৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে জিম্মি নারীকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাপ্পি পালিয়ে গেলেও তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক-উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুটার বাপ্পি একাধিক মামলার আসামি এবং এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি জানান, বাপ্পি ও তার সহযোগীরা ভবনের কেয়ারটেকারকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে পুলিশের দ্রুত অভিযানের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং জিম্মি নারীর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


