৫ আগস্ট-পরবর্তী জঙ্গী আক্রমণের মুখে রাজনৈতিক সহিংসতার নানা ঘটনার মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহসিন রেজার হত্যাকাণ্ড অন্যতম। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবি, যেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কাঁধে একটি বন্দুক দেখা যাচ্ছে। ওই বন্দুকটির লাইসেন্সধারী মালিক ছিলেন নিহত মহসিন রেজা। ৫ই আগস্ট কয়রায় নিজ বাসভবনে মহসিন রেজাকে হত্যা করে সালাউদ্দিন আম্মার। পরে তাঁর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময়ে তাঁর লাইসেন্সকৃত বন্দুকটি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের ফটোশুটের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জঙ্গীদের কবলে দেশজুড়ে একের পর এক সহিংসতা, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মহসিন রেজার মৃত্যুর বিষয়টি তুলনামূলকভাবে আড়ালে চলে যায়। ফলে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনপরিসরে তেমন বিস্তৃত আলোচনা হয়নি।
তবে সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম পরে আরও একটি আলোচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনসমক্ষে আসে। অনেকের কাছে তিনি বেশি পরিচিত হন পঙ্গু ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের কারণে। আলোচিত সেই ঘটনায়। নবজাতক সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে বের হওয়ার সময় মাসুদকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি খুনী সালাউদ্দিন আম্মার।
এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে মহসিন রেজার লাইসেন্সধারী বন্দুক কাঁধে সালাহউদ্দিন আম্মারের ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় পুরোনো সেই হত্যাকাণ্ড আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নিহত ব্যক্তির লাইসেন্সকৃত অস্ত্র হাতে নিয়ে স্বীকৃত আম্মার কেন।জেলের বাইরে? সেই অস্ত্রের পরিণতি কী হয়েছে এবং পুরো ঘটনায় আইনগত তদন্তের অগ্রগতি কোথায়?
৫ই অগাস্ট, ২০২৪ এর পরে জঙ্গীদের কবলে যায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে আত্মস্বীকৃত জঙ্গীদের অন্যতম এই আম্মারকে।গ্রেফতার না করার অর্থ বর্তমান সরকার আম্মারের মত ঘৃণিত খুনীর পক্ষে।


