মুন্সিগঞ্জে সুমন দে’র মৃত্যু ঘিরে রহস্য, হত্যা নাকি অন্য কিছু- তদন্তে পুলিশ
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে সোনার দোকানের শাটার খুলতেই মিলেছে কর্মচারী সুমন দে (৪৫)-এর নগ্ন মরদেহ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হাসাইল বাজারের একটি সোনার দোকান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সুমন দে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত নারায়ণ দের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসাইল বাজারের অমিত সরকার গোবিন্দের সোনার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি দূরে হওয়ায় সপ্তাহের শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি দোকানেই অবস্থান করতেন।
সোমবার রাত ৯টার দিকে দোকানের মালিক অমিত সরকার গোবিন্দ সুমনকে দোকানে রেখে বাড়ি চলে যান। পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত দোকান না খোলায় পাশের চায়ের দোকানের মালিক মঞ্জু রায় তাঁর মোবাইলে ফোন করেন। ফোনে কোনো সাড়া না পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকানের সামনে গিয়ে শাটারে ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে শাটারের এক পাশ খোলা দেখতে পান তাঁরা।
শাটার তুলে ভেতরে ঢুকতেই মেঝেতে নগ্ন অবস্থায় সুমনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি দোকানের মালিক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান দেওয়ানকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দুপুরে টঙ্গিবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোকানের মালিক ও আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সুমন দে’র মৃত্যুতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ওপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।


